না ফেরার তাড়া

Aug 20, 2026 - 19:02
Aug 23, 2026 - 19:52
 0  6
না ফেরার তাড়া
ছবি এডিটঃ সম্পা রানী সরকার

মেয়েদের হল।সবুজ ক্যাম্পাস।বহুবর্ণী ফুলের সাজে রূপসী। ভিতরে গেটের বামপাশে একটা ভিজিটর রুম।

‎তনু ক্লাস শেষে রুমে এসে শরীর এলিয়ে দেয়। ক্লাসে আজ 'গ‌ৃহদাহ' পড়িয়েছেন টিচার।রসিক ডক্টর এম. স্যার বলেছেন, শোন মেয়েরা ,এই ক্যাম্পাসে সুরেশের মত যদি কারো দেখা পাও,এখনি 'আই লাভ ইউ' বলে ফেল। তবে মহিমের মত অতিরিক্ত ভদ্র সুবোধের গলায় মালা পরিয়ে বোকামি কর না‌। ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাসের ক্লাসে তনু অযথা হারায় স্মৃতির বনে। অযথা খুঁজে দেখার চেষ্টায় থাকে সুরেশের।সুরেশ! সুরেশ! বুকে এক ভিন্ন আলোড়ন!

‎হঠাৎ দাড়োয়ান সুবাস দার চিৎকার ৩০৫ তনু ভিজিটর।সম্বিৎ ফিরে পায় বিক্ষিপ্ত মনজানালার দৃষ্টিপথ থেকে।এ সময় ভিজিটর!কে এলো? জামা চেন্জ করে সে ভিজিটর রুমে এগিয়ে যায়। দেখে কয়েকজন বসে আছে এবং প্রত্যেকের সাথে হলের চেনা মেয়ে।তনু গেটের বাইরে গিয়ে দেখে আরো দু একজন দাঁড়িয়ে।সে কাউকে চিনতে না পেরে বলে ৩০৫ ভিজিটর কে?একজন ফিটফাট ফর্সা সুন্দর ছেলে বলে ,আমি কল দিয়েছি।আমি শফিক।তয় বর্ষ।একই ডিপার্টমেন্ট। তোমার রুমমেট সেতু আমার ফ্রেন্ড। তোমাকে ওর কাছে জেনেছি।

‎তনু বলে আচ্ছা,আমাকে কি দরকার? কিছু বলবেন? শফিক তনুর দিকে তাকিয়ে  বলে হ্যাঁ কথা আছে, অফুরান!চলো কোন কফিশপে বসি। তনু আপত্তি জানালে শফিক সেখানে কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায়,লেকের পাশে দাঁড়ায়। তখন জলের ভিতর দুটি অস্পষ্ট ছায়ামূর্তি মানব-মানবীর। জলের তরঙ্গে কাঁপছে, ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। শফিক সেই বিমূর্ত রহস্য থেকে চোখ ফিরিয়ে মৃদু হেসে বলে ,তোমাকে এক বন জোনাকি দিতে চাই, তুমি  আমার অপ্রকাশিত কবিতা হবে?আমি হতে চাই তোমার দুঃখরাতের সাথী। ধরবে আমার হাত? তনু বিব্রত হয়, লজ্জা পেয়ে রুমে ফিরে।এক ভিন্ন অস্বস্তি! এই কি তবে সুরেশ ! স্যারের বর্ণনার সুরেশ!এ কেমন নিসঙ্কোচ প্রকাশ!পেছন থেকে বলে,সেতুকে বলার দরকার নেই ‌।

‎পরেরদিন তমা আবার ক্লাসে যায়। ডিপার্টমেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে সেই আধোচেনা শফিক।মতামত  জানতে চাইলে তনু বলে বাড়ি থেকে নিষেধ আছে সম্পর্কে  জড়াতে। শফিক বলে ভেবে দেখ,আমি তোমাকে এক পৃথিবী সুখ দিতে পারি। তোমার হাত ধরে বহু পথ পাড়ি দিতে পারি। তোমার পরম নির্ভরতা হতে পারি। তোমার কণ্ঠাস্থির নিচে কালো তিলটির  জন্য জীবন দিতে পারি। ভেবে দেখ তনু।সে  আন্দোলিত হয় ।কথার মাদকতায়!দ্বিধাহীন আবেগ প্রকাশের স্পর্ধায়!আকাশ ঘন হয়। বৃষ্টি নামে।তমার শরীর ভিজে, কিন্তু মনের  বরষা তাকে ভাসিয়ে নেয়, দূরে, দূরে..ঠিক ট্রেনে চেপে সুরেশের সাথে জব্বলপুরের মত দূরে...।

‎তনু রুমে ফিরে এক বুক সুখ নিয়ে।রুমমেট আপু খুব সেজেগুজে বের হতে হতে বলছে, আমার ফিরতে দেরি হবে।শফিকের সাথে প্রেম যমুনার ঘাটে যাচ্ছি। প্রেম যমুনা!শফিক! শফিক! বুকে ধাক্কা লাগে। তবে কী সেতু আপু শফিকের প্রকাশিত কবিতা?

‎কিন্তু সুরেশ.....চোখ ভিজে আসে তনুর। কিছুতেই নিজের সাথে আপোষ করতে পারে না।সুবাস দার সান্ধ্য ঘণ্টা একটানা বেজে চলে..।সবার ফেরার তাড়া থাকলেও কারো কারো নেই। সেতু আপুরও নেই... হয়তো নেই তনুর মানসপ্রতীম সুরেশেরও....