সম্প্রীতির সুখে আড়ষ্ট বালিকা
কৃষ্ণকলির মত চাপারঙা পঞ্চদশী মেয়েটির মুখে অন্যরকম আলো। ধারালো নাক,প্রসারিত চোখের চাহনি,চাপাফুলের মতো মুখের গড়ন! অদ্ভুত মায়াবী!গৌর বর্ণা হলে বিশালাক্ষীর মতো লাগতো।
একদিন সে মামার বিয়েতে যায় এক সবুজ গ্রামে। গায়ে-হলুদ-অনুষ্ঠানে হলুদ শাড়ি, চুলে গাদা ফুলের মালা, চোখে কাজল আর কপালে আগুনরঙা টিপে মেয়েটি বাংলা প্রকৃতি-কন্যার মতো রহস্য ছড়িয়ে।আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে থমকে যায় নিজের রূপে। উৎসবের আনন্দ আর আত্মানন্দ একাকার! বাংলাদেশের সব বিয়েবাড়িগুলো সম্প্রীতির একাত্মতায় মুখর। অসাম্প্রদায়িকতার নমুনাও এই সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো।
ঠিক তেমনভাবে এই বিয়েবাড়িতেও মোসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান.. সবাই একত্রে শুভযোগে মাতোয়ারা।ফিকে অপরাহ্ণে গীত-নৃত্যের ঝঙ্কারে মামার এক বন্ধুর আহ্বান!চলো গ্রাম ঘুরে দেখাই। শহরে বড় হওয়া স্মার্ট, উদার,সাহসী কিশোরী নির্ভয়ে হাঁটে লোকালয় পেরিয়ে ধানক্ষেত, প্রসারিত মাঠ,যৌবনা বিল ছেড়ে দূরে আরও দূরে। সবুজ শস্যের প্রশান্তিতে কৃষ্ণকলি প্রস্ফুটিত ফুলের মতো পাপড়ি মেলে, প্রজাপতির মতো ছুটতে থাকে --অদেখা রহস্য ছুঁয়ে দেখতে।কী উচ্ছ্বাস!কী মনখোলা উদ্দামতা!খোলা চুলে, খালি পায়ে সেই মাঠবালিকা সেদিনের গোধূলি ক্যানভাসে একটি জীবন্ত চিত্রকর্ম !
সে রূপের ছটা লাগে মামার বন্ধুর মন ছাড়িয়ে শরীরে। বেসামাল উত্তেজনায় সে খুব কাছে আসতে চায়। অনাবশ্যক স্পর্শ করতে চায় বারবার।যে মেয়েটি এতকাল পুরুষ চোখে স্নেহ, ভালোবাসার মায়া দেখেছে, দেখেছে পরম নির্ভরতা, আজ সেই চাহনি অচেনা। শেফালির মতো থরথর করে কেঁপে উঠে সে।আলপথে হাঁটায় অনভিজ্ঞ মেয়েটি ভয়ে দৌড়ায় এলোমেলো, উদ্দেশ্যেহীন। পিছনে মামার মাতাল বন্ধু। উচ্চস্বরে চিৎকার থামো!থামো! আবছা অন্ধকারে মেয়েটি ছুটছে ..ছুটছে।
পুরো গ্রাম সম্প্রীতির মিলনের সুখে আত্মহারা আর তখনও নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে আড়ষ্ট খ্রিস্টান মেয়েটি প্রাণপনে ছুটছে আর পিছনে তৃষ্ণার্ত কামুক ভিন্ন ধর্মের ছেলেটি..।চলছে প্রাগৈতিহাসিক আদিম বর্বরতা। অদূরে নীড়ে ফেরা কাকের দলও জাতের অস্তিত্বে সম্প্রীতি ভুলে ঝগড়ায় মত্ত..