বিদায়
"আদরী.."
"জি আফা"
"সাবধানে যাবে!"
ফুল আদরীর হাতে দুটো পোটলা ধরিয়ে দিল।
"আরে আফা! এগলা কেন? লাগবো না, লাগবো না; রাইখা দেন আফনার কাছে।"
"একদম বেশি কথা বলবে না! বাচ্চা দুটাকে নিয়ে যাচ্ছো; ওদেরকে এগুলো খাওয়াবে, কাপড়গুলো পরাবে, আর ফোনটাতে আমার নাম্বার আছে; পৌঁছে একটা ফোন দেবে কিন্তু।"
আদরীর চোখ ছলছল করছে। ফুলকে জড়িয়ে ধরে আদরী কাঁদো কাঁদো গলায় বলে উঠলো,
"আফা আফনারে আমি কহনো ভুলতাম না। আফনি আমার জন্য যা করছেন, আমি তো আফনার জন্য কিছুই করতে ফারলাম না। কুত্তার বাচ্ছাটার জন্য আইজ আফনারে এহা রাইখা যাইতাছি। শেষ কইরা লাইলো আমারে! যা টাকা-পয়সা ছিল, সব নিয়া ফালাইছে হারামি ডা!"
"ছি ছি.. বাচ্চাদের সামনে এমন করে কথা বলোনা! ওমা, কাঁদছো কেন তুমি? কেঁদোনা! মানুষের প্রকৃতি কখনো বদলায় না আদরী। যে বদলাতে চায় না, তাকে হাজার বার বলেও লাভ নেই, আফসোস করেও লাভ নেই। এখন এতো ভেঙে পড়লে হবে বলো? বাচ্চা দুটোকে তোমারই তো সামলাতে হবে! কেঁদো না আর। দেখো বাচ্চাগুলো তোমাকে দেখছে.."
ইতিমধ্যে বাসস্ট্যান্ডে বাসের আগমন ঘটেছে। বাচ্চা দুটো ফুলকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ফুলের খুব কান্না পাচ্ছে। কিন্তু সবাই মিলে কাঁদলে হবে?
"আফুনি!"
"হ্যাঁ দোলা..বলো?"
দোলা ফুলের দিকে একটি ফুল এগিয়ে দিয়ে বলল,
"ফুল আফুনি! তোমার জন্য ফুল আনছি!"
ফুলের চোখ দুটো এবার ভিজে উঠলো। সে মুচকি হেসে বলল,
"থ্যাঙ্ক ইউ!"
আদরী, দোলা আর তুলি বাসে উঠে জানালা দিয়ে ফুলের দিকে তাকিয়ে রইল। তারা ফুলকে বিদায় জানালো না, শুধু একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল।
কিছু সময় পর বাসটি চলতে শুরু করল।
ফুল দাঁড়িয়ে থেকে বাসের যাত্রাপথ দেখতে থাকলো...
- ইতি