দরুদ-সালাম
সব প্রশংসা আল্লার যিনি রব্বুল আলামিন
দরুদ ও সালাম মোহাম্মদকা রহমত আলামিন !
গুণের আধার গুণময় খোদার হুকুম : সিবগাতাল্লাহ-
তার সেই গুণের বিকাশ রসুল ; উসয়াতুন হাসানাহ !
রহমানির রহিম, গফুরুর রহিম শুধু আল্লার মহিম
খোদার রঙে রঞ্জিত আমার নবিও রউফুর রহিম !
হাবিবউল্লাহকে আহমদ করে হয়েছেন রব আহাদ
খাইরুল বাশার বানালেন তাঁকে ; আরাবি জিন্দাবাদ !
আকাশ ও জমিনের নুর আল্লাহ, যিনি বাতিন জাহিরা
রসুলও তেমনি নুরুল হুদা, মাহি সিরাজাম মুনিরা ।
নিশ্চয়ই অসীম প্রেমময় খোদা সর্ব শক্তিমান
কিতাবে যিনি বর্ণনা করেন নবিজির শান মান ।
ফেরেশতাদের সাথে নিয়ে প্রভু সৃষ্টিলগ্ন হতে
দরুদ ও সালাম জপে চলিছেন ভক্তির প্রেমস্রোতে !
যারা বিশ্বাসী তাহাদের প্রতি কোরানের নির্দেশ
রসুলুল্লাহ্কে সালাম ও দরুদ ভক্তিতে কর পেশ ।
তাজিমের সাথে একবার দরুদ জপলে নবির প্রতি
দশ রহমত নাজিল করেন, প্রভু দয়াবান অতি !
দশটি গুনাহ মাফ হয় তার, জিব্রিল তোলে হাত-
দশবার করে খোদার কাছে চায় সে মাগফিরাত ।
ফেরেশতাকুলও তাহার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে
যে জপে দরুদ, তার উপরেই খোদার রহম ঝরে !
নবির দরুদ পাঠকারী- যার হৃদয়েতে প্রেম থাকে
রহমান খোদা দশ মর্যাদায় উন্নীত করে তাকে ।
হাশরের দিনে সবচেয়ে বেশি নবির নিকটবর্তী
হবে সেই জন, যে বেশি দরুদ জপিবে নবির প্রতি ।
জান্নাতেও নবির সাথে পাবে সে মর্যাদা
দশগুণ করে তার সম্মান বাড়িয়ে দিবেন খোদা ।
যে যত দরুদ পাঠ করে, তা হয় নবির কদমে জমা
ফেরেশতারা তাহার জন্য যাজ্ঞে ততই ক্ষমা ।
মুজাম্মিলের উপরে দরুদ জপে যে কোমল প্রাণ
তাহার প্রতিও দশবার দরুদ জপে খোদা রহমান ।
আজানের জবাব দিয়ে যদি কেউ দরুদ পরার পর
মুশাফফা নবির অছিলা ধরে দোয়া করে তারপর ;
তবে তার তরে শাফি নবিজির শাফায়াত ওয়াজিব হবে,
শাহিদ রসুল তার সপক্ষে সাক্ষ্য সে দিন দিবে ।
বাশির ও নাজির মোস্তফা নবি মসজিদে ঢুকে আগে
দরুদ পড়িতেন, তারপর দোয়া করিতেন অনুরাগে ;
মসজিদ থেকে বের হওয়া কালেও নুরনবি সুমহান
নিজের উপরে অনুরূপে দরুদ জপিতেন বুরহান ।
সামর্থ্য নেই যার দান করবার, জপে যেন দরুদ সে
হয়ে যাবে তাতে সদকা আদায়, দরুদের পূতরেশে !
উবাই ইবনে কাব একদা রসুলের দরবারে
বলে, "হে রসুল, আমি আপনার উপরে অধিক হারে
দরুদ জপি ; বলে দিন আমায় কতটা সময় ধরে
আপনার উপর পড়িব দরুদ ধ্যানসাধনা করে ?"
"যতটুকু তোমার ইচ্ছা" বলিলেন হাবিব পয়গম্বর ;
"মহব্বতে জপিও দরুদ আল কুরাইশির 'পর ।"
কহিল উবাই "জপ-বন্দনার সিকিভাগকাল আমি
আপনার প্রেমে জপিব দরুদ, হে কল্যাণকামী !
বলেন ইয়াসিন "তোমার ইচ্ছা আরো তা বাড়াও যদি
তা হবে তবে তোমার জন্য মঙ্গল নিরবধি !
মুরতজা নবির জবাব শুনে সে বিনয়ে বলিল তখন
"জপ-বন্দনার অর্ধেককালই পড়িব দরুদ এখন ।"
ত্বহা নবি বলেন "তোমার ইচ্ছা- তার চেয়েও যদি পারো
আরো বেশি করে সময় বাড়াও, কল্যাণ পাবে আরো ।"
প্রত্যুক্তিতে সাহাবি উবাই বলে "হে রসুল ধন্য-
দুই তৃতীয়াংশ সময় বাড়ালাম দরুদ পরার জন্য ।"
"যতটুকু তোমার ইচ্ছা", বলেন নবি বরকতময়-
"তোমার জন্য তা উত্তম হবে, বাড়ালে অধিক সময়।"
শুনে সে কথা বলিল উবাই "দরুদের নিমিত্তে
মোর বন্দেগির সবটুকু কালই রাখিব তুষ্টচিত্তে ।"
খুশিতে নবি বলিলেন তখন "এমনটা করলে শোনো- দুনিয়া এবং আখিরাতে তোমার চিন্তা রবে না কোনো,
সব পাপ তোমার ক্ষমা করা হবে দরুদের বরকতে
দিন-দুনিয়ায় কামিয়াব হবে রসুলের মহব্বতে।"
জুম্মার দিন এই উম্মতের দোয়া কবুলের দিন
বেশি বেশি তাই এই দিনে দরুদ জপ ইনসান জিন ।
মাটির জন্য নবিদের পাক দেহ হারাম চিরতরে
নবিরা জিন্দা; খোদা তাই রিজিক দেন তাঁহাদের গোরে ।
যারা বলে নবির দেহপাক গোরে মিশে গেছে পঁচে-গলে
তারাই কাফের, তাদেরই কোরান জালিম ও ফাসেক বলে !
মহান প্রভুর এক ফেরেশতাদল দেশে দেশে ভ্রমে যারা
নবির কদমে এই উম্মতের সালাম পৌঁছায় তারা ।
উম্মি নবিকে যদি কেউ দেয় সালামের আঞ্জাম
জিব্রিল আমিনও প্রতিদানে তারে দেয় দশবার সালাম ।
কেউ যদি সালাম দেয় নবিকে তবে দয়াময় খোদা
নবির রুহকে দেহ মোবারকে ফিরিয়ে দেন সে সদা !
তাইতো তিনি হায়াতুন্নবি, দেন সালামের জবাব
দরুদ পাঠীর সংকট কাটে, ঘোচে তার সব অভাব !
"দরুদই হলো স্বর্গের পথ" যে ভোলে জপতে তা-
স্বর্গের পথ ভোলে যেন সে, সবকিছু তার বৃথা !
খোদার জিকির ও নবির দরুদ- হয় না যে মজলিশে
হাশরে তাদের অনুতাপ হবে পুণ্য শূন্যে মিশে !
সব প্রার্থনা স্থির ঝুলে থাকে ব্যোম-জমিনের মাঝে
দরুদ জপিলেই সে দোয়া কেবল ঊর্ধ্বগগনে বাজে !
প্রকৃত কৃপণ জানিবে সে-ই, যার সম্মুখে কভু
মুদাসসিরের নাম নিলেও জপে না দরুদ তবু !
নবিজির নাম উচ্চারিলেও জপে না দরুদ যারা
ধুলি ধূসরিত নাসিকবদনে লাঞ্ছিত হোক তারা !
কেউ যদি কেবল দরুদ জপে মোহাম্মদের প্রতি
নিষ্ফলা সেই লেজকাটা দরুদ, অপূর্ণ আরতি !
যারা নবিজির 'আহলে বাইত' আদি পাক পাঞ্জাতন
তাঁহাদের প্রতি জপিলেই দরুদ পূর্ণতা পায় সাধন ।
তাঁরাই পারের মহাকান্ডারী পূত ইতরাত কামিল
জপ-বন্দনায় মহব্বতে করিও তাঁদের শামিল !
যারা দৃঢ়তায় ধ্যান-জ্ঞান-প্রেমে তাঁদের আঁকড়ে ধরে
কাউসারে তারা রসুলের সাথে মিলিবে পরস্পরে !
"সালামুন কাউলাম ধ্বনি মির রাব্বির রহিম"
শুনিবে তবেই ; তাঁরাই হাদি, সিরাতাল মুস্তাকিম !
'আহলে বাইত'-ই নুহের কিস্তি, মহানির্ভয় তরণী
দরুদে তাঁদের করিও শরিক, তাঁরাই নাজাত-সরণি !