দরুদ-সালাম

Aug 23, 2026 - 19:15
Aug 23, 2026 - 19:18
 0  5
দরুদ-সালাম

সব প্রশংসা আল্লার যিনি রব্বুল আলামিন
দরুদ ও সালাম মোহাম্মদকা রহমত আলামিন !
গুণের আধার গুণময় খোদার হুকুম : সিবগাতাল্লাহ-
তার সেই গুণের বিকাশ রসুল ; উসয়াতুন হাসানাহ ! 
রহমানির রহিম, গফুরুর রহিম শুধু আল্লার মহিম
খোদার রঙে রঞ্জিত আমার নবিও রউফুর রহিম !
হাবিবউল্লাহকে আহমদ করে হয়েছেন রব আহাদ
খাইরুল বাশার বানালেন তাঁকে ; আরাবি জিন্দাবাদ !
আকাশ ও জমিনের নুর আল্লাহ, যিনি বাতিন জাহিরা
রসুলও তেমনি নুরুল হুদা, মাহি সিরাজাম মুনিরা ।


নিশ্চয়ই অসীম প্রেমময় খোদা সর্ব শক্তিমান
কিতাবে যিনি বর্ণনা করেন নবিজির শান মান ।
ফেরেশতাদের সাথে নিয়ে প্রভু সৃষ্টিলগ্ন হতে
দরুদ ও সালাম জপে চলিছেন ভক্তির প্রেমস্রোতে !
যারা বিশ্বাসী তাহাদের প্রতি কোরানের নির্দেশ
রসুলুল্লাহ্কে সালাম ও দরুদ ভক্তিতে কর পেশ ।


তাজিমের সাথে একবার দরুদ জপলে নবির প্রতি
দশ রহমত নাজিল করেন, প্রভু দয়াবান অতি !
দশটি গুনাহ মাফ হয় তার, জিব্রিল তোলে হাত-
দশবার করে খোদার কাছে চায় সে মাগফিরাত । 
ফেরেশতাকুলও তাহার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে
যে জপে দরুদ, তার উপরেই খোদার রহম ঝরে !
নবির দরুদ পাঠকারী- যার হৃদয়েতে প্রেম থাকে
রহমান খোদা দশ মর্যাদায় উন্নীত করে তাকে ।
হাশরের দিনে সবচেয়ে বেশি নবির নিকটবর্তী
হবে সেই জন, যে বেশি দরুদ জপিবে নবির প্রতি । 
জান্নাতেও নবির সাথে পাবে সে মর্যাদা 
দশগুণ করে তার সম্মান বাড়িয়ে দিবেন খোদা ।
যে যত দরুদ পাঠ করে, তা হয় নবির কদমে জমা
ফেরেশতারা তাহার জন্য যাজ্ঞে ততই ক্ষমা ।
মুজাম্মিলের উপরে দরুদ জপে যে কোমল প্রাণ
তাহার প্রতিও দশবার দরুদ জপে খোদা রহমান ।


আজানের জবাব দিয়ে যদি কেউ দরুদ পরার পর
মুশাফফা নবির অছিলা ধরে দোয়া করে তারপর ;
তবে তার তরে শাফি নবিজির শাফায়াত ওয়াজিব হবে,
শাহিদ রসুল তার সপক্ষে সাক্ষ্য সে দিন দিবে ।
বাশির ও নাজির মোস্তফা নবি মসজিদে ঢুকে আগে
দরুদ পড়িতেন, তারপর দোয়া করিতেন অনুরাগে ;
মসজিদ থেকে বের হওয়া কালেও নুরনবি সুমহান
নিজের উপরে অনুরূপে দরুদ জপিতেন বুরহান । 
সামর্থ্য নেই যার দান করবার, জপে যেন দরুদ সে
হয়ে যাবে তাতে সদকা আদায়, দরুদের পূতরেশে ! 


উবাই ইবনে কাব একদা রসুলের দরবারে
বলে, "হে রসুল, আমি আপনার উপরে অধিক হারে
দরুদ জপি ; বলে দিন আমায় কতটা সময় ধরে
আপনার উপর পড়িব দরুদ ধ্যানসাধনা করে ?"
"যতটুকু তোমার ইচ্ছা" বলিলেন হাবিব পয়গম্বর ;
"মহব্বতে জপিও দরুদ আল কুরাইশির 'পর ।"
কহিল উবাই "জপ-বন্দনার সিকিভাগকাল আমি
আপনার প্রেমে জপিব দরুদ, হে কল্যাণকামী !
বলেন ইয়াসিন "তোমার ইচ্ছা আরো তা বাড়াও যদি
তা হবে তবে তোমার জন্য মঙ্গল নিরবধি !

মুরতজা নবির জবাব শুনে সে বিনয়ে বলিল তখন
"জপ-বন্দনার অর্ধেককালই পড়িব দরুদ এখন ।"
ত্বহা নবি বলেন "তোমার ইচ্ছা- তার চেয়েও যদি পারো 
আরো বেশি করে সময় বাড়াও, কল্যাণ পাবে আরো ।"
প্রত্যুক্তিতে সাহাবি উবাই বলে "হে রসুল ধন্য-
দুই তৃতীয়াংশ সময় বাড়ালাম দরুদ পরার জন্য ।"
"যতটুকু তোমার ইচ্ছা", বলেন নবি বরকতময়-
"তোমার জন্য তা উত্তম হবে, বাড়ালে অধিক সময়।"
শুনে সে কথা বলিল উবাই "দরুদের নিমিত্তে
মোর বন্দেগির সবটুকু কালই রাখিব তুষ্টচিত্তে ।"
খুশিতে নবি বলিলেন তখন "এমনটা করলে শোনো- দুনিয়া এবং আখিরাতে তোমার চিন্তা রবে না কোনো,
সব পাপ তোমার ক্ষমা করা হবে দরুদের বরকতে
দিন-দুনিয়ায় কামিয়াব হবে রসুলের মহব্বতে।"


জুম্মার দিন এই উম্মতের দোয়া কবুলের দিন
বেশি বেশি তাই এই দিনে দরুদ জপ ইনসান জিন ।
মাটির জন্য নবিদের পাক দেহ হারাম চিরতরে
নবিরা জিন্দা; খোদা তাই রিজিক দেন তাঁহাদের গোরে ।
যারা বলে নবির দেহপাক গোরে মিশে গেছে পঁচে-গলে
তারাই কাফের, তাদেরই কোরান জালিম ও ফাসেক বলে !

মহান প্রভুর এক ফেরেশতাদল দেশে দেশে ভ্রমে যারা 
নবির কদমে এই উম্মতের সালাম পৌঁছায় তারা । 
উম্মি নবিকে যদি কেউ দেয় সালামের আঞ্জাম
জিব্রিল আমিনও প্রতিদানে তারে দেয় দশবার সালাম ।
কেউ যদি সালাম দেয় নবিকে তবে দয়াময় খোদা
নবির রুহকে দেহ মোবারকে ফিরিয়ে দেন সে সদা !
তাইতো তিনি হায়াতুন্নবি, দেন সালামের জবাব
দরুদ পাঠীর সংকট কাটে, ঘোচে তার সব অভাব !


"দরুদই হলো স্বর্গের পথ" যে ভোলে জপতে তা-
স্বর্গের পথ ভোলে যেন সে, সবকিছু তার বৃথা !
খোদার জিকির ও নবির দরুদ- হয় না যে মজলিশে
হাশরে তাদের অনুতাপ হবে পুণ্য শূন্যে মিশে !
সব প্রার্থনা স্থির ঝুলে থাকে ব্যোম-জমিনের মাঝে
দরুদ জপিলেই সে দোয়া কেবল ঊর্ধ্বগগনে বাজে !
প্রকৃত কৃপণ জানিবে সে-ই, যার সম্মুখে কভু
মুদাসসিরের নাম নিলেও জপে না দরুদ তবু !
নবিজির নাম উচ্চারিলেও জপে না দরুদ যারা
ধুলি ধূসরিত নাসিকবদনে লাঞ্ছিত হোক তারা !


কেউ যদি কেবল দরুদ জপে মোহাম্মদের প্রতি
নিষ্ফলা সেই লেজকাটা দরুদ, অপূর্ণ  আরতি !
যারা নবিজির 'আহলে বাইত' আদি পাক পাঞ্জাতন 
তাঁহাদের প্রতি জপিলেই দরুদ পূর্ণতা পায় সাধন । 
তাঁরাই পারের মহাকান্ডারী পূত ইতরাত কামিল
জপ-বন্দনায় মহব্বতে করিও তাঁদের শামিল !
যারা দৃঢ়তায় ধ্যান-জ্ঞান-প্রেমে তাঁদের আঁকড়ে ধরে
কাউসারে তারা রসুলের সাথে মিলিবে পরস্পরে !
"সালামুন কাউলাম ধ্বনি মির রাব্বির রহিম"
শুনিবে তবেই ; তাঁরাই হাদি, সিরাতাল মুস্তাকিম !


'আহলে বাইত'-ই নুহের কিস্তি, মহানির্ভয় তরণী
দরুদে তাঁদের করিও শরিক, তাঁরাই নাজাত-সরণি !


Sauparna Masum সৌপর্ণ মাছুম একজন কবি ও গীতিকার। জন্ম ০৯ আগস্ট ১৯৮৬ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। বাবা মতিউর রহমান ও মা জাহানারা বেগম-এর চার সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। বাবার সেনাবাহিনীতে চাকরির সুবাদে বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে তার পড়াশােনায় হাতে খড়ি। ২০০২ সালে তিনি বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট বাের্ড হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ২০০৪ সালে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া থেকে তিনি সমাপ্ত করেন রসায়নে অনার্সসহ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাভ করেছেন প্রথম শ্রেণিতে বিএড ও এমএড ডিগ্রি । এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেছেন বগুড়া ল কলেজ থেকে । আর চিকিৎসাশাস্ত্রে বাংলাদেশ হােমিওপ্যাথিক প্যারা মেডিকেল বাের্ড খুলনা’-এর অধীনে হােমিওপ্যাথিতে নিয়েছেন এলএইচএমপি ডিগ্রি । আর ডিএইচএমএস সম্পন্ন করেছেন বগুড়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ থেকে। ছাত্রজীবন থেকেই কবিতা ও গান লেখা শুরু । ২০১৮ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আদিগন্ত শস্যজলে নিরন্তর বাঁশি’ । এরপর থেকেই সাহিত্য জগতে শুরু হয় তাঁর নিরন্তর পথচলা । পেশায় তিনি একজন শিক্ষক ও চিকিৎসক। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি বর্তমানে তিনি উত্তরবঙ্গের স্বনামধন্য শিক্ষালয় বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। গৃহলক্ষ্মী জাকিয়া সুলতানা ও একমাত্র কন্যা মৃত্তিকা তাসনিম-কে নিয়ে তার গৃহীজীবন। প্রকাশিত গ্রন্থ : কাব্যগ্রন্থ : (১) আদিগন্ত শস্যজলে নিরন্তর বাঁশি : ২০১৮, পৃষ্ঠা প্রকাশন (২) জোছনাপত্রে ভেজানো শ্লোক : ২০২০, চর্যা প্রকাশ (৩) কলসে বালির কাঁথা : ২০২২, চর্যা প্রকাশ (৪) হেরার দ্যুতি : ২০২৫, চর্যা প্রকাশ ; সংগীত : (০৫) সপ্তসুরে নন্দনহার : ২০১৯, ইশা প্রকাশন ; শিশুতোষ : (৬) সময় ৩৫ কিশোর ছড়া-কবিতা সংকলন : ২০২৫, সময় প্রকাশন