গাদিরে খুম

Jul 4, 2026 - 17:05
Jul 4, 2026 - 19:51
 0  8
গাদিরে খুম

দশম হিজরি এহরাম পরে নুরনবি পদব্রজে
শত-সহস্র সাহাবি নিয়ে মক্কায় এলেন হজে ।
দুই কম কুড়ি জিলহজ চাঁদে হজ করে সমাপন
মহাসমারোহে ফিরছেন নবি সাথে সাহাবি-স্বজন ।
জু্হফার কাছে গাদিরে খুমে পৌঁছালে মহারথে
ওহি এল কাছে "হে রসুল তোমার পালনকর্তা হতে
তোমার প্রতি যা নাজিল হয়েছে, সকলের কাছে তা
পৌঁছায়ে দাও; না হলে খোদার বাণী পৌঁছালে না ।"

থামালেন নবি সব কাফেলা নির্দেশ আসমানি
সমবেত হ'ল সাহাবি সকল শুনতে নবির বাণী ।
পঞ্চতরুছায়াঘেরাতল চাঁদোয়া শোভিত হ’ল
রৌদ্রোজ্জ্বল দ্বিপ্রহরে ধড়ে যেন প্রাণ এল !
সেই তপ্ত মরুতে বেলাল আজানে দিলেন ডাক
নিয়ে সাহাবি জোহর-সালাত পড়ালেন নবিপাক ।
উটের জিনকে মঞ্চ বানায়ে তাতে চড়িলেন নবি
সাহাবি-কেরাম নীরব শ্রোতা, ভাষক মরুর কবি !

"সব প্রশংসা এক আল্লার যিনি আমাদের রব
এনেছি ঈমান তাঁর উপরে, আমরা করি যাঁর স্তব।
তাঁর কাছেতেই চাই সাহায্য যিনি পতিতের-পাবন
বিপথগামীদের করেন যিনি সৎপথে পরিচালন ।
সাক্ষ্য আমি দিচ্ছি আজি, তোমরা সবাই শোনো
আল্লাহ্ ছাড়া মহাবিশ্বে উপাস্য নাই কোনো !
মুহম্মদ তাঁর পেয়ারা নবি, হাবিব নামে যে খ্যাত ;
দয়াময় খোদা মহাজ্ঞানী তিনি করেছেন আমায় জ্ঞাত।
অতি শীঘ্রই তোমাদের ছেড়ে প্রভুর সন্নিকটে
চলে যাব আমি; কাটবে সুদিন বিচ্ছেদ-সংকটে !
তোমাদের নিকট রেখে যাচ্ছি দুটি বস্তুর ভার
মদীয় পূত 'আহলে বাইত' আর কোরান আল্লার ! 
দ্বৈত এ রথ যদি আঁকড়ে ধর, পূর্ণ সমর্পণে
হবে নাতো কভু পথভ্রষ্ট , থাকিলে দৃঢ়পণে !"


এরপর নবি দৃঢ়চিত্তে আসাদুল্লার হাত
ঊর্ধ্বে তুলিয়া উচ্চে দিলেন 'এলানে মাওলাইয়াত'
“আওলা ও মাওলা আমি হই যার, যে যেখানেই থাকো
আলীও মাওলা আজ থেকে তার সকলে জানিয়া রাখ।”

এই বলে নবি করিলেন দোয়া "হে খোদা মেহেরবান
আলীকে যে করে সাহায্য, তারে দিও জাযা-এহ্ছান ! 
যার বন্ধু আলী পাক হবে, তাহাকে বন্ধুরূপে
গ্রহণ করিও ; করুণাধারায় সিক্ত করিও চুপে !
শত্রুতা যদি কেউ করে জেনে, হইও শত্রু তার
লাঞ্ছনা দিলে তুমি তারে দিও, শত লাঞ্ছনা-হার !
রিসালাতি-দায়মুক্ত হলাম ; প্রভুর মেহেরবানি,
পৌঁছায়ে দিও সকলের কাছে আজিকার সব বাণী ।"

মাহেন্দ্র সে ক্ষণে গাদিরখুমে আসিল জিব্রাঈল
সুরা মায়েদার তৃতীয় আয়াত প্রভুজি করিল নাজিল ।
"পরিপূর্ণ করিলাম দ্বীন, হবে না তা আর ক্ষুণ্ণ
তোমাদের প্রতি স্বীয় নেয়ামতও করিলাম সম্পূর্ণ !
আজ হতে আমি প্রসন্নচিত্তে এই ঘোষণা দিলাম
তোমাদের কাছে আমার সবিশেষ মনোনীত দ্বীনিসলাম !"

ওহি পেয়ে নবি বলে শুকরিয়ায় ''আল্লাহু আকবার
পূর্ণতা দিলেন দ্বীনকে যিনি সহস্র কৃপা তাঁর !
আমার কর্ম-রিসালাতে যেমন তুষ্ট আল্লাজি
আসাদুল্লার মাওলাইয়াতেও আল্লা তেমন রাজি !"
আবু বক্কর, উমার ফারুক সব শুনে বলে, "ভাই
'আবু তালেবের সন্তান' তোমায় মোবারকবাদ জানাই ।
আজ হতে তুমি আমাদেরি কেবল মাওলা-ইমাম নও
মুমিন নর ও নারীদেরও তুমি মওলা-এ হক হও !"
অতঃপর সবে মহোৎসবে একে একে কাছে এসে
'খোশ আমদেদ' জানাল তোমায়, হাসিমুখে ভালবেসে !


সকল নবিরই ওয়াসী ছিল, যাঁরা ছিল নবিদের জুড়ি
আলী ছিল নবির ওয়াসী-খলিফা, ভ্রাতা-উত্তরসূরি ।
মুসার নিকটে হারুনের যেমন গৌরব অমলিন 
মহাবীর আলী নবির নিকটে সে মর্যদায় আসীন ।
হারুনের সাথে নাফসুল্লার কেবলি তফাত এই
তিনি ছিল নবি, মুহম্মদের পরে আর নবি নেই ।
আল্লার কাছে রসুলে পাকের যেমন মর্যাদা
নবিজির কাছে আলী তেমনি মাক্কি শাহজাদা !
আহমদ নবি সাবধানকারী, এল যে মানববেশে
খোদা-সন্ধানী খুঁজে পাবে পথ, তোমার মাঝেতে এসে। 
নবিজির পর সাহাবি-কেরাম পড়িলে দ্বন্দ্ব-দ্বিধায়
তুমি দিলে তার বিশদ ব্যাখ্যা স্বকীয় সুপ্রজ্ঞায় ।
জ্ঞানের শহর আহমদ নবি, সেই নগরীর দ্বার
মুশকিল কুশা মওলা আলী মুরতজা হায়দার !


সিফাতি নুরের দুই অংশ, নবি ও মওলা আলী
সব কিতাবের জ্ঞানসুধা তাঁরে দিয়েছেন প্রভু ঢালি !
নুরনবি তোমায় আপন ছাঁচে গড়েছেন নিজ হাতে
তুমি হলে তাই সবাক কোরান, আছ কোরানের সাথে ।
এই উম্মাতের হুজ্জাত তুমি, হে সিদ্দিকে আকবর
এবাদত হয় তোমার পানেতে তাকালে খোশ-নজর !
যে দিক পানেই ঘুরিবে তুমি, হে সত্যের নিরিখ
সত্য ও ন্যায় কম্পাস-সম ঘুরিবে তোমার দিক !
ভালোবাসে যারা আল্লা ও রসুল, করে আমলে সালিহা
তারাই খোদার সন্তোষভাজন, মুমিন হিজবুল্লাহ !
সেই মুমিনেরে আপন হস্তে সুধা-কাওসার আনি
পিয়াইবে তুমি রোজ কিয়ামতে, রসুলে পাকের বাণী ।
সেনাপতি ছিলে সব সমরে বিজয় কেতনধারী
স্বর্গ ও নরক কে পাবে না পাবে, তুমি বন্টনকারী ।
পুত্রের উপর বেশি অধিকার যেমন জন্মদাতার
মুসলমানের উপর তোমারও তদ্রূপ অধিকার ।
নবি ও খোদার বন্ধু সে; যার সখ্যতা হলো তৈরি
তোমার সাথে- যার অমিত্র ভাব সে রসুল-আল্লার বৈরী !
যারা করে ঘৃণা,বিদ্বেষপোষণ আসাদুল্লার প্রতি
চিনে নিও তারা মুনাফিক খাঁটি, ইসলাম-চ্যুত মতি !


Sauparna Masum সৌপর্ণ মাছুম একজন কবি ও গীতিকার। জন্ম ০৯ আগস্ট ১৯৮৬ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। বাবা মতিউর রহমান ও মা জাহানারা বেগম-এর চার সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। বাবার সেনাবাহিনীতে চাকরির সুবাদে বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে তার পড়াশােনায় হাতে খড়ি। ২০০২ সালে তিনি বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট বাের্ড হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ২০০৪ সালে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া থেকে তিনি সমাপ্ত করেন রসায়নে অনার্সসহ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাভ করেছেন প্রথম শ্রেণিতে বিএড ও এমএড ডিগ্রি । এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেছেন বগুড়া ল কলেজ থেকে । আর চিকিৎসাশাস্ত্রে বাংলাদেশ হােমিওপ্যাথিক প্যারা মেডিকেল বাের্ড খুলনা’-এর অধীনে হােমিওপ্যাথিতে নিয়েছেন এলএইচএমপি ডিগ্রি । আর ডিএইচএমএস সম্পন্ন করেছেন বগুড়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ থেকে। ছাত্রজীবন থেকেই কবিতা ও গান লেখা শুরু । ২০১৮ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আদিগন্ত শস্যজলে নিরন্তর বাঁশি’ । এরপর থেকেই সাহিত্য জগতে শুরু হয় তাঁর নিরন্তর পথচলা । পেশায় তিনি একজন শিক্ষক ও চিকিৎসক। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি বর্তমানে তিনি উত্তরবঙ্গের স্বনামধন্য শিক্ষালয় বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। গৃহলক্ষ্মী জাকিয়া সুলতানা ও একমাত্র কন্যা মৃত্তিকা তাসনিম-কে নিয়ে তার গৃহীজীবন। প্রকাশিত গ্রন্থ : কাব্যগ্রন্থ : (১) আদিগন্ত শস্যজলে নিরন্তর বাঁশি : ২০১৮, পৃষ্ঠা প্রকাশন (২) জোছনাপত্রে ভেজানো শ্লোক : ২০২০, চর্যা প্রকাশ (৩) কলসে বালির কাঁথা : ২০২২, চর্যা প্রকাশ (৪) হেরার দ্যুতি : ২০২৫, চর্যা প্রকাশ ; সংগীত : (০৫) সপ্তসুরে নন্দনহার : ২০১৯, ইশা প্রকাশন ; শিশুতোষ : (৬) সময় ৩৫ কিশোর ছড়া-কবিতা সংকলন : ২০২৫, সময় প্রকাশন